আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | বিকাল ৪:০৭

  • বাংলা English
সদ্য :

☉ নব নির্বাচিত এমপিকে ৬ ইউপি চেয়ারম্যানের ফুলেল শুভেচ্ছা☉ প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন \ ঘাতক সিরাজুল গ্রেপ্তার☉ মঠবাড়িয়ায় বাল্য বিয়ে রোধে তারুণ্যের কন্ঠ অনুষ্ঠিত☉ অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন বানচালকারীদের কোন ছাড় নয়☉ বখাটে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বড়মাছুয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন☉ মঠবাড়িয়া-বড়মাছুয়া সড়কে কার্পেটিং কাজে আবারও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার : পিচ-পাথর নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ☉ বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আবদুর রশিদ মানিক মিঞা’র দাফন সম্পন্ন☉ ছাত্রলীগ নেতা সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রতাহারের দাবিতে মানববন্ধন☉ মঠবাড়িয়ায় থানার ওসি প্রত্যাহার☉ ১৮ মামলার আসামী ফল সোহেলসহ গ্রেপ্তারকৃত-১২জন জেল হাজতে

কোভিড-১৯ ও প্রাথমিক শিক্ষা– ড. ওবায়েদুল্লাহ অভি

কোভিড-১৯ ও প্রাথমিক শিক্ষা– ড. ওবায়েদুল্লাহ অভি

পৃথিবীজুড়ে সংক্রামক কোভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বর্তমানে আমরা এমন একটা সময় পার করছি যখন কোভিড-১৯ এর ছোবলে প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলছে মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বজুড়ে বিরাজ করছে কোভিড-১৯ আতঙ্ক। বাংলাদেশেও বেড়ে চলছে আক্রান্তের সংখ্যা। জনগনের মনে বেজে চলেছে অজানা শঙ্কা। সময় যাচ্ছে উদ্বিগ্নতায়, সীমাহীন দুর্ভাবনার ভেতর দিয়ে।

কোভিড-১৯ এর ফলে বড় ধাক্কাটি লেগেছে  শিক্ষায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষার্থীদের এই কোভিড-১৯ এর আক্রমণ থেকে রক্ষার কৌশল হিসেবে গত ১৬ই মার্চ’২০২০ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দুঃস্বপ্নের মতোই শোনায়, কিন্তু এটাই বাস্তবতা যে, সারাবিশ্বে আজ প্রায় কেউই স্কুলে যায় না। বাংলাদেশে অন্য সবকিছুর মতো স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। কয়েক কোটি শিক্ষার্থী ঘরবন্দি হয়ে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।

একটি দেশের শিক্ষার মূল ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে প্রাথমিক স্তরের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার নিয়ে। একটি বড় অংশ ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন অভিভাবকবৃন্দ। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবারই আকুতি একটাই, কবে স্বাভাবিক হবে সবকিছু। তবে অবস্থাদৃষ্টে ধারণা স্পষ্ট যে, অচিরেই তা স্বাভাবিক হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতে শিশুরা যেন বাড়িতে থেকেই বিভিন্ন বিকল্প শিক্ষা ব্যাবস্থার মাধ্যমে তাদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে পারে সেজন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।   অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শিশুরা যত বেশি সময় স্কুল থেকে দূরে থাকে,  ঝরে পড়ার সম্ভাবনা ততটাই বেড়ে যায়। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে নিন্মবিত্ত, নিন্মমধ্যবিত্ত সর্বোপরি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা অকালে ঝরে পড়লে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জাতির ভবিষ্যত। তাই এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিকল্প পদ্ধতি তৈরি করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর কারণে স্কুল বন্ধ থাকাকালে শিশুদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়  বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। যেমন-

১. অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম।

২. সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ’ঘরে বসে শিখি’ কার্যক্রম।

৩. বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম।

৪. শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঠদান।

৫. শিক্ষকদেরকে আইসিটিতে দক্ষকরণ।

৬. সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন।

৭. ঝরে পড়া রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ।

৮. উপবৃত্তি প্রদান অব্যাহত রাখা।

৯. ’কিট এলাউন্স’ প্রদান। ইত্যাদি

এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, যাদের টিভি নেই বা টিভি থাকলেও ডিশলাইন নেই, তারা দেখবে কীভাবে? আবার ডিশলাইন থাকলেও অনেকের এলাকায় সংসদ টিভি দেখা যায় না। ব্র্যাক শিক্ষাকর্মীদের করা এক হিসাবে দেখা যায়, সংসদ টিভির ক্লাস গড়ে চল্লিশ থেকে বিয়াল্লিশ শতাংশ শিক্ষার্থী দেখছে। কোনো কোনো এলাকায় একেবারেই সংসদ টিভি দেখা যায় না। তাদের ভাষ্যমতে, এই ক্লাসগুলো যদি বিটিভির মাধ্যমে দেখানো যেত, তাহলে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারত। আবার কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না। ফেসবুক ও ইউটিউবে এই পাঠগুলো পাওয়া গেলেও প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে অনেকে তা চাইলেও দেখতে পারে না। আর তার চেয়ে বড় কথা আমাদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্র। কার্যত এসব ব্যবস্থা তাদের তেমন কাজে আসছেনা। কেননা, দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ টিভি, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবের মাধ্যমে পাঠদানের সুবিধা নিতে পারছে না।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের ‘চিলড্রেন ভয়েসেস ইন দ্য টাইম অব কোভিড-১৯’ শিরোনামে প্রকাশিত এই জরিপে বলা হয়, মহামারির সময়ে স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতনের জন্য সরাসরি তিনটি কারণকে উল্লেখ করেছে। সেগুলো হলো শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, সামাজিক দূরত্বের কারণে মানসিক চাপ এবং পরিবারে দারিদ্র্তা বেড়ে যাওয়া। শতকরা ৭১ ভাগ শিশু ও তরুণ বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে তারা নিজেদের শিক্ষাজীবন নিয়ে চিন্তিত। তারা বিচ্ছিন্ন ও নিঃসঙ্গ অনুভব করছে। দীর্ঘদিন এমন থাকলে শিক্ষার্থীদের দ্বিধা, ভয় ও হতাশা আরও বাড়বে।

স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিত, বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতো, ক্লাস করতো, খেলাধুলা করতো, অনেকে প্রাইভেট পড়তো, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যেত।  বর্তমানে এসব কাজ যখন বন্ধ তখন তাদের মাথায় ভর করবে আজে বাজে চিন্তা। এটি স্বাভাবিক। শিশু মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী শিশুরা শুধু শুধু বসে থাকতে পারে না। তাই অভিভাবকবৃন্দকে উচিত হবে শিশুদেরকে বাড়ীতে  কোন কাজ দিয়ে ব্যস্ত রাখা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও উপায় খুঁজছে কিভাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখা যায়। প্রাথমিকের এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক টাচে রাখা ছাড়াও তাদের মায়েদের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে করোনার সতর্কতামুলক বার্তা পৌঁছানোর চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। আমরা আশা করি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ও এই কঠিন পরিস্থিতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবধর্মী এবং ফলপ্রসূ কিছু করবে।

কিন্তু কোভিড১৯ যদি আরও অনেক দিন থাকে? তাহলে কী হবে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম? সেই পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার নীতিনির্ধারকদের এখনই ভাবা দরকার। কারণ, কোভিড১৯ নামের এই ভাইরাস দীর্ঘদিন পৃথিবীতে থাকতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুল বন্ধ, বাড়িতে বসে অফিসের কাজ, শারীরিক দূরত্ব রক্ষা — এমন অনেকগুলো নেতিবাচক বিষয় এখন অভিভাবকদের সামনে। তারপরও অভিভাবক ও সচেতন সকলের জন্য কিছু করনীয় তুলে ধরা হলো।

  • শিশুদের সাথে আলোচনা করে তাদের দৈনন্দিন কাজের সাথে সম্ম্বয় করে পড়ার পরিকলপনা বা রূটিন করা যেতে পারে। যদিও বাড়িতে শিশুদের পক্ষে নির্দিষ্ট একটি সময়সূচি বা কাঠামো মেনে চলা কঠিন। এক্ষত্রে শিশুদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বুঝিয়ে বলুন। তাদের প্রতি নমনীয় আচরণ করা প্রয়োজন।
  • শিশুকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের মাধ্যমে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। তাদের অনুভূতি প্রকাশে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, মানসিক চাপ অনুভব করলে শিশু ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই অভিভাবকদের শান্ত থেকে শিশূদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ভুয়া খবর বা তথ্য সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা প্রয়োজন।
  • বাড়িতে সহজ ও আনন্দদায়ক বিষয়বস্তু দিয়ে পড়া আরম্ভ করতে হবে। পরে আস্তে আস্তে বড় ও অপেক্ষাকৃত কঠিন বিষয়বস্তু পড়তে হবে। পড়ার সময় শিক্ষার্থীর পাশে থাকা প্রয়োজন।
  • ইন্টারনেট ব্যাবহারের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে। গোপনীয় বিষয়গুলো যাতে না দেখে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনলাইনে কীভাবে কাজ করতে হয়, কোন কোন বিষয়ে সাবধানতা প্রয়োজন এবং এই প্ল্যাটফর্মে কি ধরনের আচরণ করতে হয় সে সম্পর্কে শিশুদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
  • শিশুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। শিশুর শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা, স্কুলের বিভিন্ন তথ্য প্রাপ্তি, কোনো বিষয়ে জানার প্রয়োজন পড়লে অথবা বিভিন্ন নির্দেশনা জানতে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।

সর্বোপরি এ সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য সরকারের পাশাপাশি অভিভাবক, এনজিও, সুশীল সমাজ, শিক্ষা সচেতন ব্যক্তিসহ আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।


লেখকঃ ড. ওবায়েদুল্লাহ অভি, ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর. ঢাকা।  Email: obayd77@gmail.com

Comments

comments

আরও পড়ুন

নব নির্বাচিত এমপিকে ৬ ইউপি চেয়ারম্যানের ফুলেল শুভেচ্ছা
নব নির্বাচিত এমপিকে ৬ ইউপি চেয়ারম্যানের ফুলেল শুভেচ্ছা
নব নির্বাচিত এমপিকে ৬ ইউপি চেয়ারম্যানের ফুলেল শুভেচ্ছা
প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন \ ঘাতক সিরাজুল গ্রেপ্তার
প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন \ ঘাতক সিরাজুল গ্রেপ্তার
প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন \ ঘাতক সিরাজুল গ্রেপ্তার
মঠবাড়িয়ায় বাল্য বিয়ে রোধে তারুণ্যের কন্ঠ অনুষ্ঠিত
মঠবাড়িয়ায় বাল্য বিয়ে রোধে তারুণ্যের কন্ঠ অনুষ্ঠিত
মঠবাড়িয়ায় বাল্য বিয়ে রোধে তারুণ্যের কন্ঠ অনুষ্ঠিত
অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন বানচালকারীদের কোন ছাড় নয়
অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন বানচালকারীদের কোন ছাড় নয়
অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন বানচালকারীদের কোন ছাড় নয়
বখাটে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বড়মাছুয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন
বখাটে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বড়মাছুয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন
বখাটে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বড়মাছুয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন
মঠবাড়িয়া-বড়মাছুয়া সড়কে কার্পেটিং কাজে আবারও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার : পিচ-পাথর নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ
মঠবাড়িয়া-বড়মাছুয়া সড়কে কার্পেটিং কাজে আবারও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার : পিচ-পাথর নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ
মঠবাড়িয়া-বড়মাছুয়া সড়কে কার্পেটিং কাজে আবারও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার : পিচ-পাথর নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ